পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল বিভাগের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে নকলের ঘটনা, দায়িত্বরত শিক্ষককে জানানোয় তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দায়িত্বরত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নকল করছিল। বিষয়টি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পরীক্ষার দায়িত্বরত শিক্ষক সালাউদ্দীন স্যারকে জানালে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করেন।
মোবাইল ফোন জব্দ হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পরীক্ষা চলাকালেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে হুমকি দেয়। তাদের ভাষ্য ছিল, “পরীক্ষা শেষে তোকে দেখে নেওয়া হবে, তোকে মারধর করা হবে।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই তিনি সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথা দায়িত্বরত শিক্ষক সালাউদ্দীন স্যারকে জানিয়ে নিরাপত্তা চাইলেও তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি এবং শিক্ষার্থীকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া বা অভিযুক্তদের নিবৃত্ত করার উদ্যোগও নেননি।
পরীক্ষা শেষে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীকে বিদ্যালয়ের বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে সংঘবদ্ধভাবে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং পরে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগের পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে পরিবারের দাবি।
এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একইভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দায়িত্বরত শিক্ষক সালাউদ্দীনের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে সত্য প্রকাশ করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এমন হামলার শিকার না হয়।
।। কন্ঠ ২৪।। সত্যের কন্ঠস্বর, জনতার পাশে।।
Leave a Reply